1. admin@dineralo24.com : Dineralo24 : Md Hafizul Islam
  2. hmdkamal2001@gmail.com : Md Kamal Hossain : Md Kamal Hossain
  3. ahmedsiam409@gmail.com : Siam Hossain : Siam Hossain
হযরত মুহাম্মদ (স:) এর দাদা আব্দুল মুত্তালিব এর আগমন -
বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ০৯:৫৬ অপরাহ্ন

হযরত মুহাম্মদ (স:) এর দাদা আব্দুল মুত্তালিব এর আগমন

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২২
  • ১২ বার পঠিত

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দাদা আব্দুল মুত্তালিব সে যুগে মক্কার একজন অতি প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। বিরাট পরিবার তার। সকলের ব্যয়ভার বহন সহজসাধ্য নয়। তবুও তিনি এই এতিম বালককে প্রাণ দিয়েই ভালবাসতেন। অতীব সুদর্শন পুত্র আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর তিনি তার ঔরসজাত পুত্রের অনুপম মুখচ্ছবি দেখেই পুত্র হারানোর যন্ত্রণা অনেক খানি লাঘব করেন

এই অভাবনীয় অতুলনীয় অচিন্তনীয় শিশুর জন্মগ্রহণের কথা শোনা মাত্রই দাদা আবদুল মুত্তালিব সঙ্গে সঙ্গে পুত্রবধূ মা আমিনার ঘরে আগমন করেন।এবং সঙ্গে সঙ্গে নবজাতককে দুহাতে জড়িয়ে নিয়ে কাবা গৃহে প্রবেশ করে এবং শিশুর নাম রাখেন মুহাম্মদ। এই নামটি সমগ্র আরবে অপরিচিত না হলেও সুপরিচিত ছিল না।এর অর্থ প্রশংসিত।

শুক্রবার এর আমল ও জুমার দিনের ফজিলত

এতিম বালকের নাম রাখার পর ফিরে এলেন মা আমিনার কাছে। তাকে অপেক্ষা করতে বললেন যতক্ষণ বোনের সাদ গোত্রের ধাত্রী মাতা গন মক্কায় না আসে কেননা তখনকার দিনের প্রথা অনুযায়ী সম্ভ্রান্ত বংশের ছেলেমেয়েরা শৈশবে ধাত্রীমাতার কাছে মানুষ হতো। জন্মের ৭ তারিখে আব্দুল মুত্তালিব এক ভোজ সবার আয়োজন করলেন। ওই ভোজ সভায় মক্কার বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ আমন্ত্রিত হলেন। আমন্ত্রিত হলেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ জিজ্ঞাসা করলেন বালকের নাম গতানুগতিক ধারাতে না রেখে কেন এরূপ রাখলেন।

সে সময় আরবের মানুষের নাম অধিকাংশই তাদের দেব দেবীর নামানুসারে রাখা হতো। কিন্তু এই বালকের বেলায় তার ব্যতিক্রম হল দাদা মুত্তালিব উত্তর দিলেন, আমি মনে করি ভবিষ্যতে এই বালক স্বর্গে আল্লাহর দ্বারা এবং তার সৃষ্টির দ্বারা প্রশংসিত হবে।

এইভাবে দাদা আব্দুল মুত্তালিবের মহান সুপ্ত ইচ্ছা সুমহন পৌত্রের সমগ্র জীবনে দুর্বার বেগে কার্যকর হয়ে চলল। দাদা আব্দুল মুত্তালিব যে বৃক্ষ চারাটি লালন করলেন ক্ষণিকের নানা বাধা-বিপত্তি ঝগড়াঝাঁপাট তাপ রৌদ্র অগ্রাহ্য করে বৃক্ষচারা একদিন মহান মহীরুহতে পরিণত হলো। এই নামের মাহাত্ম্য সমগ্র পরিবেশকে যেন মহান করে তুলছে। তার জন্মের পূর্বেই মা আমিনা সন্তানের মহত্ব সম্পর্কে এক আশ্চর্যজনক শুভ স্বপ্ন দেখে। শুধু যে সন্তানের নামই বিশিষ্টতা বহন করছে তা না পিতা আব্দুল্লাহর নামও তাই। কেন দেবদেবীর সঙ্গে তা জড়িত নয়। যার অর্থ আল্লাহর দাস। মা আমিনার নাম ও তাই যার অর্থ সন্তুষ্ট বা সুরক্ষিত নারী।

মা মা আমিনা অপেক্ষা করতে থাকেন বনি সায়াদ গোত্রের ধাত্রী মায়ের জন্য যাতে তিনি অনতিবিলম্বে শিশুকে তার হাতে নেস্ত করতে পারেন। ইতিমধ্যে আবু লাহাবের দাসী সওবিয়াহর কাছে শিশু লালিত হতে থাকে। আবু লাহাব ছিল হযরতের চাচা এই একই দাশী মহাবীর হামজাকে দুধ পান করান। এই দিক দিয়ে হামজা ও হযরত দুই ভাই ও বটে। হামযা ছিলেন হযরতের সর্বকনিষ্ঠ চাচা পরবর্তীকালে এই হামযাই ইসলামের সিংহ আখ্যা লাভ করেন। যদিও ধাত্রী মাতা সওবিয়াহর কয়েকদিন মাত্র হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দুধ পান করিয়েছিলেন। তবুও তার প্রতি ছিল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর অকুন্ঠ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্মের দুই এক সপ্তাহ পরই বনি সায়াদ গোত্রের ধাত্রী মাথা গন আপন পালক শিশুর সন্ধানে মক্কায় এলো। কিন্তু তারা সকলেই শিশু মোহাম্মদ সাঃকে বাদ দিয়ে গেল। এই ভেবে যে এতিম শিশুকে নিয়ে কি হবে? কে তার জন্য টাকা পয়সা দেবে ইত্যাদি। সকলেই বড়লোকের সন্তানের পেছনে ধাওয়া করলো।

অবশেষে শৈশবে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর লালন পালনের ভার পড়লো হালিমার উপর। হালিমা দুই বছরের জন্য শিশুকে গ্রহণ করলেন। হালিমার মেয়ে সায়েমাই অধিকাংশ সময় শিশু মোহাম্মদকে দেখাশোনা করত। খোলা মাঠে মুক্ত প্রান্তরে হযরতের জীবন গঠনের সুযোগ এলো। উপরে অন্তত আকাশ নিচে বিশাল প্রান্তর মাঝে শিশু মোহাম্মদ সাঃ এর জীবন সৌধ রচনা হতে থাকলো। যখন দুই বছর পার হলো দুধ মা হালিমা শিশুকে মা আমিনার নিকট হাজির করলেন মা আমিনা শিশু মোহাম্মদ সাঃ এর অবস্থা সন্তোষজনক দেখে আরো দু’বছর শিশুকে হালিমার কাছে রাখার প্রস্তাব দিলেন। এভাবে শিশু মোঃ পরবর্তী আরো দু বছর মা হালিমার গৃহে থাকলেন।

ধাত্রী হালিমা তাকে আপন সন্তানের মতই লালন পালন করতে লাগলেন।দাঁত্রী হালিমা নিজেই এক জায়গায় বলেছেন- সে বছর ভয়ানক দুর্ভিক্ষ। স্বামী হারিচ বিন আব্দুল ওজাহ ও আমি উভয়ই চরম দুর্দশা নিপতিত। এ অবস্থায় উভয়ই মক্কায় চলে আসার জন্য স্থির করি। সেখানে গিয়ে কোন বড় লোকের নবজাত শিশু পালনের ভার গ্রহণ ও শিশুর বাবা-মার কৃপায় দুঃখ দূর করব। এই ছিল আমাদের মনের বাসনা। আমরা উভয়ই এক ধাত্রী দলে যোগদান করলাম। আমাদের উপজাতীয় আরো অনেক নারী এই দলে ছিল তারা মক্কায় যাচ্ছিল পালিত পুত্র পাওয়ার আশায়।

যে গর্ধবীতে আমি চরেছিলাম তাই এত কৃশ আর অনাহারে এত দুর্বল ছিল যে, মনে হচ্ছিল রাস্তাতেই ওটা মারা যাবে কোলের ছেলেটা পাশে মারা যায়। এই ভয়ে রাতে আমরা একেবারে চোখের পাতা বন্ধ করিনি। আমর নিজের স্বামী যে মাদি উটটায় চড়ে যাচ্ছিলেন তার একরক্তি দুধ ছিলনা যা দিয়ে কোলের শিশুর খিদে মিটাতে পারি।

চোখে একেবারে ঘুম নেই কাজের নিরাশায় মন ভরে ওঠে এই অবস্থায় কি করে পরের ছেলে মানুষ করার ভাগ নেই।

MD Siam Hossain

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

About Us

Stay with us by subscribing to our website to be the first to receive all the trusted news from around the world. https://dineralo24.com/

© All rights reserved © 2019 Dineralo24
Theme Customized By Theme Park BD