1. admin@dineralo24.com : Dineralo24 : Md Hafizul Islam
  2. hmdkamal2001@gmail.com : Md Kamal Hossain : Md Kamal Hossain
  3. ahmedsiam409@gmail.com : Siam Hossain : Siam Hossain
মেসি রোনালদোর কাতারে যেতে পারবেন তো হলান্ড? - দিনের আলো ২৪
মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০২২, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন

মেসি রোনালদোর কাতারে যেতে পারবেন তো হলান্ড?

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২ আগস্ট, ২০২২
  • ১৫ বার পঠিত
মেসি রোনালদোর কাতারে যেতে
মেসি রোনালদোর কাতারে যেতে পারবেন তো হলান্ড

গোলমেশিন বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে নাম লেখানো আর্লিং হলান্ডকে এই নামে ডাকেন অনেকে। বক্সের আশপাশে বা ভেতরে যেখানেই বল পান আর তিনি যে অবস্থাতেই থাকেন, গোল করা তাঁর জন্য ব্যাপার নয়। গোলমেশিন এই হলান্ডই লিভারপুলের বিপক্ষে কমিউনিটি শিল্ডে সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি।

পুরো ম্যাচই খেলেছেন হলান্ড। দলের ৩-১ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচে বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি। কমিউনিটি শিল্ডের ম্যাচে হলান্ডকে আটকে রাখার দায়িত্ব ছিল লিভারপুলের ডাচ ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইকের। তিনি সেটা ভালোভাবেই পেরেছেন। তবে হলান্ডকে সামলাতে গিয়ে বুঝেছেন, আসন্ন মৌসুমে ম্যান সিটির প্রতিপক্ষ দলগুলোর ডিফেন্ডার সামনে ভয়ংকর বিপদ!

চলন্ত বাসে ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগে চালক গ্রেফতার

এই বয়সেই নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন আর্লিং হলান্ড। ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েছেন নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে। নরওয়ের এই তারকা ভবিষ্যতে লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জুতায় পা গলাতে পারবেন কি না, সে আলোচনা প্রায়ই হয়। মাত্র ২২ বছর বয়সে ইউরোপের তিনটি লিগে ১৫০ গোল করে ফেলা হলান্ডকে নিয়ে সেই আলোচনা হতেই পারে। এই বয়সেই ১৫০টি গোল তো আর সাধারণ কোনো বিষয় নয়। সিটিতে এসে গোলের সেই ক্ষুধা ধরে রাখতে পারাটাই এখন তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

১৫০টি ক্লাব গোলের পাশাপাশি নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে ২১ ম্যাচে ২০ গোল করে ফেলেছেন হলান্ড। ২২ বছর বয়সে এমন অর্জন ফুটবল দুনিয়াতে খুব বেশি খেলোয়াড়ের নেই। এমনকি বিশ্ব ফুটবলের অনেক কিংবদন্তি তারকাও ২২ বছর বয়সে হলান্ডের ধারেকাছ দিয়েও যেতে পারেননি। ভবিষ্যতে তিনি মেসি–রোনালদোর পর্যায়ে নিজেকে নিতে পারবেন কি না, সেটি নিয়ে প্রত্যাশা যখন আছেই, তখন স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল জাগতেই পারে, হলান্ডের মতো বয়সে বিশ্ব ফুটবলের সেরা দুই তারকা কোথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। কতটুকুই–বা ছিল তাঁদের অর্জন।

নিজের ২২তম জন্মদিনে মেসিও ছিলেন সবার আলোচনারই বিষয়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেক ঘটে আর্জেন্টাইন তারকার। ১৭ বছর বয়সে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে প্রথম খেলেন। ১৮ বছর বয়সেই পেয়ে যান আর্জেন্টিনার জার্সি।

২২ বছর বয়সে হলান্ড ম্যানচেস্টার সিটিতে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে যোগ দিলেও মেসি কিন্তু সেই বয়সেই বার্সেলোনার হয়ে ইউরোপ–সেরার গৌরবটা গায়ে মেখে ফেলেছেন। ২০০৬ সালে বার্সার মূল একাদশেরই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

সে সময় স্যামুয়েল ইতোর সহযোগী ভূমিকাতেই দেখা যেত মেসিকে। ২০০৮–০৯ মৌসুমে ৩০টি গোল করেছিলেন মেসি। যদিও ২২ বছর বয়সে তিনি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোলে হলান্ডের চেয়ে পিছিয়ে। আর্জেন্টাইন তারকা গোল করতে পেরেছিলেন ৮০টি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে তখন তাঁর গোলসংখ্যা ১০। তবে এই বয়সে তিনি তাঁর প্রথম ব্যালন ডি’অরটা পেয়ে গিয়েছিলেন।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ২২ পূর্ণ হওয়ার আগে অবশ্য মেসির মতোই ছায়ায় কাটিয়েছেন। তবে সেই বয়সেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অনুশীলন মাঠে ডাচ ফরোয়ার্ড রুড ফন নিস্টেলরয়ের সঙ্গে ঝগড়া বেধেছিল পর্তুগিজ তারকার। সেটি নিয়ে তাঁর কান্নার দৃশ্য আজও অনেকের মনে থাকার কথা। ২০০৬ সালে নিস্টলরয় রিয়াল মাদ্রিদে চলে গেলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোল স্কোরিং দায়িত্বটা পুরোপুরি এসে চাপে ২১ বছর বয়সী রোনালদোর কাঁধে। ২২ বছর বয়সে তাঁর নামের পেছনে গোলের সংখ্যা ছিল ৪৭টি, মেসির চেয়ে কম। হলান্ড এই জায়গায় অনেকটাই এগিয়ে রোনালদোর চেয়ে।

মেসি–রোনালদো দুজনেই ২২ বছর বয়সে হলান্ডের চেয়ে গোলসংখ্যায় পিছিয়ে ছিলেন। কিন্তু ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে দুজনই নিজেদের অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। মেসি জিতেছেন ৭টি ব্যালন ডি’অর, রোনালদো পাঁচটি। মেসির গোলসংখ্যা বার্সেলোনার হয়েই ৭৭৮ ম্যাচে ৬৭২টি। পিএসজির হয়ে ১১টি। দেশের হয়ে ৮৬টি। মোট ৭৬৯টি। রোনালদো তো আন্তর্জাতিক ফুটবলেই সর্বোচ্চ গোলদাতা। পর্তুগালের জার্সিতে গোল করেছেন ১৮৯ ম্যাচে ১১৭টি। স্পোর্টিংয়ের হয়ে ৫ গোলের মালিক হয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে গিয়ে সেটিকে পরিণত করেছিলেন ১৪২–এ। রিয়ালের হয়ে গোল করেছেন ৪৫০টি। জুভেন্টাসের হয়ে ১০১টি। ক্লাব ক্যারিয়ারে তাঁর মোট গোলই ৬৯৮।

২২ বছর বয়সে হলান্ড এগিয়ে আছেন ঠিকই, কিন্তু সেটি জার্মানি, অস্ট্রিয়া আর নরওয়ের ক্লাবের হয়ে গোলে। ম্যানচেস্টার সিটিতে এ মৌসুম থেকেই শুরু হবে তাঁর মেসি–রোনালদোদের কাতারে যাওয়ার মূল পরীক্ষা। সেটি কি হলান্ড পারবেন? মেসি–রোনালদোরাই এ মিশনে তাঁর আসল প্রেরণা।

হলান্ডকে সামলানো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফন ডাইক শুরু করেছেন প্রথাগতভাবেই, ‘সব স্ট্রাইকারের জন্য মনোযোগ সব সময় একই রকম।’ এটুকু বলার পরই বোধ হয় আসল কথাটা বললেন ফন ডাইক, ‘অবশ্যই সে অনেক ভালো মানের। ডিফেন্ডারদের জীবন কঠিন করে তুলবে। ইংল্যান্ডে সে ডিফেন্ডারদের জীবন দুর্বিষহই করে দেবে।
হলান্ডের খেলার ধরন কেমন? এ প্রশ্নের উত্তরে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারকে নিয়ে ফন ডাইক বলেছেন, ‘সে খুব বেশি সরাসরি। তার সব গুনই আছে। সে হেড করতে পারে, খুব গতিময়।’

ম্যান সিটিতে যেমন নাম্বার নাইন হিসেবে নাম লিখিয়েছেন হলান্ড, লিভারপুলও তেমনি দলে ভিড়িয়েছে উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার ডারউইন নুনিয়েজকে। এ ছাড়া হ্যারি কেইন, রবার্তো ফিরমিনো, গ্যাব্রিয়েল জেসুসরা তো আছেনই। সব মিলিয়ে এবারের প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইটা বেশ জমবে বলেই মনে করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

ফন ডাইক কী মনে করেন, এবারের প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা কে হবেন? এ বিষয়ে তেমন কিছু বলেননি লিভারপুলের ডিফেন্ডার। তবে হলান্ড কীভাবে ইংল্যান্ডের ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে তাঁর কথা, ‘হলান্ডকে আমি কোনো পরামর্শ দেব না। সে জানে যে কে কী বলল, সেটাতে নয়, নিজের খেলায় মনোযোগ দিতে হবে তাকে।

ফন ডাইক এর সঙ্গে যোগ করেন, বেশি দামের খেলোয়াড়দের চাপ থাকে। কিন্তু কী আর করার আছে? ভালো খেলতেই নিয়ে আসা হয় তাদের। ক্লাব তার জন্য চড়া ট্রান্সফার ফি দেয়। আমাদের ডারউইনের জন্যও তাই।

বিভিন্ন দেশের ধারাভাষ্যকারের মুখে তাঁর নামের বিভিন্ন উচ্চারণ শোনা যায়। বিশেষ করে নামের পরের অংশটা। কেউ বলেন ‘হারলান্ড’, কেউ ‘হরলান্ড’, কারও মুখে শোনা যায় ‘হলান্ড’। উয়েফার ওয়েবসাইটে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের নামের উচ্চারণ কেমন হবে, সেটা দেওয়া হয় কিছুদিন পরপর। সেটা অনুসরণ করেই এত দিন প্রথম আলোতেও তাঁর নাম লেখা হতো ‘আর্লিং ব্রাউট হরলান্ড’। কিন্তু তিনি নিজে কীভাবে উচ্চারণ করেন?

সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার নিজেই বলেছেন, ‘আমার নামের প্রথম অংশটা আর্লিং ব্রাউট। পরের অংশের উচ্চারণ হলান্ড। খুব সহজ। আমাকে আপনারা আর্লিং হলান্ড নামেই ডাকতে পারেন।

শুধু নামের উচ্চারণ নয়, আনুষ্ঠানিক পরিচিতি পর্বে হলান্ড জানিয়ে দিয়েছেন নতুন ক্লাবে তাঁর নিজের লক্ষ্যের কথাও, স্ট্রাইকার হিসেবে আমি চাই আনন্দের সঙ্গে খেলতে। যখন আমি আনন্দের সঙ্গে খেলি, অনেক গোল করি। আমি হাসতে পছন্দ করি, ফুটবল খেলতে পছন্দ করি। সুতরাং আমার চাওয়া এখানে আনন্দের সঙ্গে খেলা, অনেক হাসতে পারা।

হলান্ডের বাবা আলফি হলান্ডও একসময় খেলতেন ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে। ডর্টমুন্ড থেকে তাঁর সিটিতে যোগ দেওয়াটা তাই একরকম নিয়তিই বলা যায়। সিটির প্রতি ছোটবেলা থেকেই তাঁর এক রকম ভালোবাসা ছিল, সেটা ২১ বছর বয়সী স্ট্রাইকার বেশ কয়েকবারই বলেছেন। তবে বাবার মতো কখন তাঁরও সিটির হয়ে খেলার সত্যিকার ইচ্ছেটা হলো, সেটা জানাতে গিয়ে একটা গল্প বলেছেন হলান্ড, ‘আমি ওদের বিপক্ষে একটা ম্যাচ খেলছিলাম। এর আগে ওদের খেলা টিভিতে দেখেছি। তবে টিভিতে দেখা আর মাঠে প্রতিপক্ষ হয়ে খেলা, দুটো আলাদা ব্যাপার। আমি ২৫ মিনিট বলে স্পর্শই করতে পারলাম না। মনে মনে তখন বলছিলাম, আরে ভাই গুন্দোয়ান, দয়া করে টিকিটাকা খেলা বন্ধ করো।সিটি যেভাবে সুযোগ তৈরি করছিল, সেটা অবিশ্বাস্য ছিল। মনে মনে তখন আমি সেই দলের অংশ হতে চাইলাম। তখনই বুঝলাম, ওদের প্রতি আমার একটা দুর্বলতা তৈরি হয়েছে।

MD Siam Hossain

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

About Us

Stay with us by subscribing to our website to be the first to receive all the trusted news from around the world. https://dineralo24.com/

© All rights reserved © 2019 Dineralo24
Theme Customized By Theme Park BD