1. admin@dineralo24.com : Dineralo24 : Md Hafizul Islam
  2. hmdkamal2001@gmail.com : Md Kamal Hossain : Md Kamal Hossain
  3. ahmedsiam409@gmail.com : Siam Hossain : Siam Hossain
কালো রাজহাঁস বা কালো মরাল এর জীবন কাহিনি - দিনের আলো ২৪
মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০২২, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন

কালো রাজহাঁস বা কালো মরাল এর জীবন কাহিনি

  • আপডেট সময় : রবিবার, ৩ জুলাই, ২০২২
  • ৮৩ বার পঠিত
কালো রাজহাঁস বা কালো
কালো রাজহাঁস বা কালো মরাল এর জীবন কাহিনি

১৯৯১ সালের ১৮ই আগস্ট। সোভিয়েত ইউনিয়ন তখনো বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্র, ইউরোপ আর এশিয়ার ১১টি টাইম জোন জুড়ে বিস্তৃত তাদের সাম্রাজ্য। চার মাস পর বিশ্বে এই রাষ্ট্রটির কোন নিশানা থাকবে না, এটি যদি সেদিন কেউ বলার চেষ্টা করতেন, সেটি কেউ বিশ্বাস করতেন না।

কিংবা ফিরে যাওয়া যাক ২০০১ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর। পরদিন যাত্রীবাহী জেট বিমান দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হবে নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ার, হামলা চলবে পেন্টাগনে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোকে কয়েক দশকজুড়ে এক বিরাট যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হবে- এমন একটা ভবিষ্যৎ সবচেয়ে তুখোড় নিরাপত্তা বা গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞের পক্ষেও অনুমান করা ছিল কঠিন।

তিউনিসিয়ার সিদি বুজিদ শহর ২০১০ সালের ১৭ই ডিসেম্বর যা ঘটেছিল সেটার কথাও বলা যেতে পারে। শহরের গভর্নরের অফিসের সামনে রাস্তায় প্রকাশ্যে নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়েছিল পুলিশি হেনস্তার শিকার এক তরুণ ফল বিক্রেতা। সেই আগুনে মোহাম্মদ বোয়াজিজির নিজের প্রাণই কেবল যায়নি, এর জের ধরে শুরু হওয়া আরব বসন্তে ওলট-পালট ঘটে গেছে আরব বিশ্বে। কিন্তু ২০১০ সালের সেই দিনটিতে কারও পক্ষেই অনুমান করা সম্ভব ছিল না যে পরের দশ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যে কী ঘটবে।

বেয়ারস্টোর ২৫ দিন কোহলির ১৮ মাসের সমান

গত তিরিশ বছরে এরকম বড় ঘটনা আরও আছে। যেমন ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট। যার জের ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার সূচনা হয়েছিল।

এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন করোনাভাইরাস মহামারি। যা এখন ওলট-পালট ঘটিয়ে দিচ্ছে সারা পৃথিবীতে।

এধরণের ঘটনাগুলোকে এখন বর্ণনা করা হয় ‘ব্ল্যাক সোয়ান’ বা কালো রাজহাঁস বলে। কিন্তু দুনিয়া তোলপাড় করা এসব ঘটনার সঙ্গে কালো রাজহাঁসের সম্পর্কটা কোথায়?

ব্ল্যাক সোয়ান বা কালো রাজহাঁস তত্ত্ব

নাসিম নিকোলাস তালেব হচ্ছেন ‘ব্ল্যাক সোয়ান‌‌’ তত্ত্বের জনক। তিনি বহু বছর কাজ করেছেন পুঁজিবাজারে। কিন্তু পরে তিনি পেশা পরিবর্তন করে চলে আসেন একাডেমিক জগতে। ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয় তার বই “দ্য ব্ল্যাক সোয়ান‌।”

বইটি প্রকাশিত হওয়ার পরের বছরেই বিশ্বের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিরাট ধস নামে। তখন থেকেই আলোচিত তার এই তত্ত্ব।

নাসিম নিকোলাস তালেব তার বইতে ব্যাখ্যা করেছেন কেন তিনি এরকম ঘটনা বর্ণনার জন্য ব্ল্যাক সোয়ানের উপমা টেনেছেন।

অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কারের আগে পর্যন্ত মানুষের ধারণা ছিল রাজহাঁস মানেই হচ্ছে সাদা রাজহাঁস। কারণ বিশ্বের কোথাও এর আগে কালো রাজহাঁস কেউ দেখেনি। কাজেই মানুষ তার পর্যবেক্ষণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই জানে যে কালো রাজহাঁস বলে কিছু নেই।

কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় যখন প্রথম কালো রাজহাঁসের দেখা মিললো, সেটা ছিল পক্ষী-বিজ্ঞানীদের জন্য এক বিরাট ধাক্কা।

আমাদের পর্যবেক্ষণ এবং অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের যে একটা সীমাবদ্ধতা আছে এবং এই জ্ঞান যে খুবই ভঙ্গুর, এই উদাহরণের মাধ্যমে সেটি নাসিম নিকোলাস তালেব তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। হাজার বছর ধরে মানুষের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান এক লহমায় মিথ্যে হয়ে গেছে যখন সত্যি সত্যি প্রথম কালো রাজহাঁসের দেখা মিলেছে। ব্ল্যাক সোয়ান মানে হচ্ছে যা আমরা জানি না কিংবা যা আমাদের জানার অভিজ্ঞতার বাইরে ছিল, কিন্তু যা আসলে আছে বা ঘটতে পারে।

মূলতঃ এই উদাহরণ থেকেই এসেছে ‘ব্ল্যাক সোয়ান ইভেন্টের’ তত্ত্ব।

খুব সহজ করে বলতে গেলে, সেসব ঘটনাকেই ‘ব্ল্যাক সোয়ান’ বলে বর্ণনা করা হয়

• যেগুলো ঘটে খুবই আচমকা, কোন পূর্বাভাস ছাড়া। একেবারেই আন-প্রেডিক্টেবল।

• এসব ঘটনার ব্যাপ্তি এবং ভয়াবহতা গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয়।

• বিশ্ব ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক বদলের সূচনা করে এবং এসব ঘটনার প্রভাব হয় সুদূরপ্রসারী।

নাসিম নিকোলাস তালেবের মতে, ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর বিশেষজ্ঞরা এমন ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন, যেন এরকম ঘটাটাই অবশ্যম্ভাবী ছিল। কিন্তু তাদের এই জ্ঞান আসলে ঘটনা পরবর্তী উপলব্ধি থেকে পাওয়া, ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে অর্জন করা। ইংরেজিতে যাকে বলে ‘ইন হাইন্ডসাইট।’

গত তিরিশ বছরে সবচেয়ে বড় পাঁচটি ব্ল্যাক সোয়ান ইভেন্টের ক্ষেত্রেই এসব বৈশিষ্ট্য একেবারেই স্পষ্ট। এসব ঘটনা যখন ঘটেছে, তার আগে পর্যন্ত কেউ কল্পনা করতে পারেনি এরকম নাটকীয় ঘটনা ঘটতে পারে, কাজেই এরকম ঘটনার পূর্বাভাস যেমন ছিল না, তেমনি ছিল ঘটনা মোকাবেলার প্রস্তুতি।

কালো রাজহাঁস একটি বড়ো পাখি। এদের সাধারণত কালো পালক ও ঠোট লাল হয়ে থাকে। তারা একগামী প্রজনন কারি এবং ডিমে তা দেওয়ার কর্তব্য এবং মরালছানার প্রতিপালন স্ত্রী পুরুষ উভয়ই করে।

কালো মরালকে ১৮০০ শতাব্দীতে একটি আলঙ্কারিক পাখি হিসেবে বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত করা হয়।কিন্তু এরা স্বাধীন হয়ে স্থিতিশীল জনগোষ্ঠী গঠন করে। কালো মরালের একটি ছোট্ট জনসংখ্যার মার্লোতে টেম্স নদির উপর এবং হাম্পোসায়ারের ইতছেন নাদিত অবস্থিত। একে ১৯৭০ সালে ইংরেজি প্রকিতিবিদ জন ল্যাথাম বৈগানিক ভাবে বর্ণনা করেছেন। কালো মরালকে পূর্বে চেনোপিচ মহাজাতির একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে স্থাপন করা হয়েছিল। কালো মরালকে হয় একা অথবা শত শত বা হাজার সহোচরদের সঙ্গে পাওয়া যায়। কালো মরাল চিড়িয়াখানা পাখি সংগ্রহের জনপ্রিয় পাখি। এরা অনেক সময় পালিয়ে পালিয়ে তাদের প্রাকৃতিক সীমার বাইরে চলে যায়।

MD Siam Hossain

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

About Us

Stay with us by subscribing to our website to be the first to receive all the trusted news from around the world. https://dineralo24.com/

© All rights reserved © 2019 Dineralo24
Theme Customized By Theme Park BD