1. admin@dineralo24.com : Dineralo24 : Md Hafizul Islam
  2. hmdkamal2001@gmail.com : Md Kamal Hossain : Md Kamal Hossain
  3. ahmedsiam409@gmail.com : Siam Hossain : Siam Hossain
স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন বাস্তব - দিনের আলো ২৪
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন

স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন বাস্তব

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৪ জুন, ২০২২
  • ২১০ বার পঠিত
স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন
স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন বাস্তব

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর নির্মিত একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংএর সাথে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা যুক্ত হয়। ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই স্তর বিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাসের এই সেতুর উপরের স্তরে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরে একটি একক রেলপথ রয়েছে। পদ্মাব্রহ্মপুত্রমেঘনা নদীর অববাহিকায় ৪২টি পিলার ও ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যানের মাধ্যমে মূল অবকাঠামো তৈরি করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬.১৫০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার।

২০০৬-২০০৭ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে, তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।এইসিওএম-এর নকশায় পদ্মা নদীর উপর বহুমুখী আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প ‘পদ্মা বহুমুখী সেতুর’ নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০১১ সালে এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৩ সালে। মূল প্রকল্পের পরিকল্পনা করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালের ২৮ আগস্টে। সে সময় ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার পদ্মা সেতু প্রকল্প পাস করা হয়। পরে আওয়ামী লীগ  সরকার এসে রেলপথ সংযুক্ত করে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় সংশোধন করে। তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। পদ্মা সেতুর ব্যয় আরও আট হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়। ফলে তখন পদ্মা সেতুর ব্যয় দাঁড়ায় সব মিলিয়ে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা।বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ২০১০ সালের এপ্রিলে প্রকল্পের জন্য প্রাক যোগ্যতা দরপত্র আহবান করে। প্রথম পরিকল্পনা অনুসারে, ২০১১ সালের শুরুর দিকে সেতুর নির্মাণ কাজ আরম্ভ হওয়ার কথা ছিলএবং ২০১৩ সালের মধ্যে প্রধান কাজগুলো শেষ হওয়ার কথা ছিল।পরিকল্পনা অনুসারে প্রকল্পটি তিনটি জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করবে- মুন্সীগঞ্জ (মাওয়া পয়েন্ট/উত্তর পাড়), শরীয়তপুর এবং মাদারীপুর (জঞ্জিরা/দক্ষিণ পাড়)। এটির জন্য প্রয়োজনীয় এবং অধিগ্রহণকৃত মোট জমির পরিমাণ ৯১৮ হেক্টর।

আইটি সেক্টরকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে হাফিজুল ইসলাম

প্রথম দিকে সেতু নির্মাণকারী প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের পদ্মা নদীর তলদেশের মাটি খুঁজে পেতে বেগ পেতে হয়। তলদেশে স্বাভাবিক মাটি পাওয়া যায়নি। সেতুর পাইলিং কাজ শুরুর পরে সমস্যা দেখা যায়। প্রকৌশলীরা নদীর তলদেশে কৃত্রিম প্রক্রিয়ায় মাটির বদলে নতুন মাটি তৈরি করে পিলার গাঁথার চেষ্টা করে।

পদ্মা সেতু নিয়ে বাংলাদেশের সকলের মাঝে একটি আনন্দ কাজ করে।এই সেতুর মাধ্যমে বরিশাল, শরিয়তপুর,খুলনা এইসব বিভাগের সাথে ঢাকার সংযোগ ব্যবস্থা তৈরি হবে।এছাড়াও ঢাকা থেকে মানুষ ঈদের সময় তাদের নিজেদের বাড়িতে যাওয়া আসায় অনেক সমস্যা হতো।সেই সমস্যা থেকে এখন মানুষ অনেক শান্তিতে বাড়িতে যেতে পারবেন।এছাড়াও উত্তর অঞ্ল এর মানুষের জন্য পদ্মা সেতু একটি আসিরবাদ সরূপ। কিছু মানুষ পদ্মা সেতু নিয়ে সরকারের বিভিন্ন সমালোচনা করেছে কিন্তু সরকার সেইসব মন্তব্যের দিকে তাকিয়ে না থেকে তারা তাদের কাজ করে গেছেন। বাংলাদেশের সরকার বিরোধী দলের নেতারা বিভিন্ন সমালোচনা ও গুজব ছড়িয়ে কাজে ব্যঘাত সৃষ্টি করতে চেয়েছিল।

পদ্মা নদীর উপর দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মা সেতু। পদ্মা নদী অনেক গভীর হুওয়ার কারনে সরকার তাদের প্রথম বাজেট ঠিক রাখতে পারে নি।নদীর গভীরতা বেশি হওয়ার কারনে সরকারকে তাদের অনেক পরিকল্পনা বাড়াতে হয়েছে। এমনকি পদ্মা সেতুর নকশা পর্যন্ত পরিবর্তন করতে হয়েছে। ২৮ এপ্রিল ২০২২ সালে সেতু মন্ত্রণালয় পদ্মা সেতুর জন্য টোলের হার প্রস্তাব করে ও তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠায়। ১৭ মে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পরিবহনের জন্য আলাদা আলাদা টোলের হার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

পদ্মা সেতুর ভৌত কাজকে মূলত পাঁচটি প্যাকেজে ভাগ করা হয় যথা— (ক) মূল সেতু, (খ) নদী শাসন, (গ) জাজিরা সংযোগকারী সড়ক, (ঘ) টোল প্লাজা ইত্যাদি। মাওয়া সংযোগকারী সড়ক, টোল প্লাজা ইত্যাদি এবং মাওয়া ও জাজিরা সার্ভিস এলাকা। প্রকল্পে নিয়োজিত নকশা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘মনসেল-এইকম’ ভৌত কাজের ঠিকাদার নিয়োগের প্রাক-যোগ্যতা দরের নথি প্রস্তুত, টেন্ডার আহ্বানের পর টেন্ডার নথি মূল্যায়ন, টেন্ডার কমিটিকে সহায়তাসহ এ-সংক্রান্ত যাবতীয় কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল নকশা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাজ তদারক করত। ভৌত কাজের বিভিন্ন প্যাকেজের জন্য দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি।

বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যােগাযােগ ব্যবস্থা ভালাে না থাকায় মূল্য থেকে বর্ণিত হয়। সেতু নির্মাণের ফলে যাতায়াত ব্যবস্থা ওই অঞ্চলের মানুষ তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যা গতিশীল হবে। ফলে ওই অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত ফসল সহজেই দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌছে যাবে। এতে কৃষা ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবে। এছাড়া কৃষিক্ষেত্রে নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার সহজ হবে। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞলের মানুষের দারিদ্র্য বিমােচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই সেতু নির্মাণের ফলে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় সেখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। ফলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তাছাড়া সহজেই ওই অঞ্চলের মানুষ কাজের জন্য অন্যান্য স্থানে যেতে পারবে। এতে বেকারদের কর্মসংস্থান হবে।

পদ্মা সেতুর নানারকম ইতিবাচক দিক থাকলেও এর কিছু নেতিবাচক প্রভাবও বিদ্যমান। পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে নদীর দুই পাড়ের কিছু মানুষের কর্মসংস্থান লােপ পাবে। এক্ষেত্রে নদী পারাপারে নিয়ােজিত লঞ্চ মালিকদের ব্যবসা বিলুপ্ত হবে। তা ছাড়া সবাই সেতু ব্যবহার করে পারাপার করায় লও ও ফেরিঘাটে অবস্থিত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তথা দোকানদার, কুলি প্রভৃতি শ্রেণির লােকদের ব্যবসায় মন্দা দেখা দেবে। তবে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি সরকার যদি এসব ক্ষতিগ্রস্ত লােকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে তাহলে পদ্মা সেতুর নেতিবাচক প্রভাবগুলাে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

আগামি ২৫/০৬/২০২২ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুভ উদ্ভোদন করবেন। এসময় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্ধ ও নেতরা উপস্থিত থাকবেন। শুভ উদ্ভোদনের মাধ্যমে কাল শেষ হবে বহু কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু। শুভ উদ্ভোদন করতে বিভিন্ন বিভাগের দলমত নির্বিশেষে সবাই উপস্থিত থাকবেন। যদিও বিভিন্ন কারণে সব মানুষ পদ্মা সেতু উদ্ভোদন করতে যেতে পারবেন না কারণ সরকার একটা লিমিটেড দেওয়া আছে। সর্বশেষ পদ্মা সেতু বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি বিশাল অহংকার।আগামী কাল সকাল ১০ টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য দিয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতু শুভ উদ্ভোদন করবেন। সবাই সেই কাঙ্ক্ষিত সময়ের জন্য অপেক্ষা করতেছে।

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের মানুষের একটি স্বপ্নের নাম, যা দেশের অর্থনীতির চেহারা পাল্টে দেবে। এই সেতুর ফলে দেশের দক্ষিণাঞলে গড়ে উঠবে ব্যাপক শিল্পকারখানা, গার্মেন্টস, গােডাউন প্রভৃতি। ব্যবসা-বাণিজ্যে আসবে নতুন গতি। নানা অনিশ্চয়তাকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের টাকায় বাঙালির স্বপ্ন এখন বাস্তবের পথে । এই সেতু অচিরেই বদলে দেবে দেশের অর্থনীতি, উন্নত করবে মানুষের জীবনযাত্রা।

MD Siam Hossain

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

About Us

Stay with us by subscribing to our website to be the first to receive all the trusted news from around the world. https://dineralo24.com/

© All rights reserved © 2019 Dineralo24
Theme Customized By Theme Park BD