>

যা আপনার জানা প্রয়ােজন ???

যা আপনার জানা প্রয়ােজন
অস্টিওপােরােসিস অক্ষম করে দেওয়ার মত হাঁড়ের রােগ যা ৫০ বছরের বেশী বয়সের প্রতি ৩ জন মহিলার ১ জনকে এবং প্রতি ৫ জন পুরুষের ১ জনকে আক্রান্ত করে। এই রােগ নীরব ব্যাধি হিসেবেও পরিচিত, যেহেতু হাড় ভেঙ্গে না যাওয়া পর্যন্ত এর কোন
লক্ষন প্রকাশ পায় না। রােগ প্রতিরােধক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে, আপনি অস্টিওপােরােসিস হওয়ার ঝুঁকিতে পরতে পারেন, যা আপনাকে অক্ষম করে দিতে পারে এবং ব্যথার কারণ হতে পারে। সুখবর হল যে অস্টিওপােরােসিস সহজেই ও ব্যথামুক্তভাবে নির্ণয়
করা যায় এবং এর ফলপ্রসূ চিকিৎসাও রয়েছে। এই বুকলেটটির উদ্দেশ্য হচ্ছে অস্টিওপােরােসিস-এর সাথে সম্পর্কযুক্ত ঝুঁকি নিরূপনে আপনাকে সাহায্য করা, যা থেকে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার অস্টিওপােরােসিস আছে কিনা বা আপনার
অস্টিওপােরােসিস হওয়ার মত ঝুঁকি রয়েছে কিনা।
আশা করা যায় এই বুকলেটটি অস্টিওপােরােসিস-এর সাথে সম্পর্কযুক্ত আপনার যেসকল প্রশ্ন রয়েছে তার উত্তর জানতে এবং আপনার হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রাথমিক পদক্ষেপগুলাে গ্রহন করতে আপনাকে সাহায্য করবে।
অস্টিওপােরােসিস কি ?
অস্টিওপােরােসিস (হাঁড়ের ক্ষয়) একটি রােগ যার ফলে হাঁড় দূর্বল হয়ে যায় এবং সহজেই ভেঙে যায়। আপনার হাঁড় হচ্ছে একটি জীবন্ত টিস্যু যা নিয়মিত নতুন করে তৈরী হচ্ছে। কিছু কোষ আছে। যারা হাড় গঠন করে এবং কিছু কোষ আছে যারা হাড় ক্ষয় করে । হাড় ক্ষয়কারী কোষগুলাে যখন হাড় গঠনকারী কোষের চেয়ে দ্রুত কাজ করে তখন হাড়ের ক্ষয় দেখা দেয় এবং যার ফলে ক্রমান্বয়ে অস্টিওপােরােসিস হতে পারে। যেহেতু হাড়ের ক্ষয় নীরবে বাড়ে, সেক্ষেত্রে অনেক মহিলারা তা বুঝতে পারেননা যে তাদের
অস্টিওপােরােসিস আছে, এমনকি তাদের মেরুদন্ডে ফ্রাকচার থাকা সত্বেও অস্টিওপােরােসিস-এর কারণে সাধারণত ফ্র্যাকচার হতে পারে।
শরীরের এমন অংশগুলাে হচ্ছে কোমর, মেরুদন্ড ও কজ


অস্টিওপােরােসিস উচ্চতা হ্রাস (সাথে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া), ব্যথা এবং অক্ষমতারও কারণ হতে পারে।
হাঁড়ের কম ঘনত্বের কারণে মহিলারা পুরুষদের তুলনায় বেশী ঝুঁকিতে ভুগেন এবং মেনােপােজ (ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া)-এর সময় এবং পরে হাড় ক্ষয়ের এই মাত্রা বেড়ে যায়। হাড় স্থিত নয়, এর অর্থ হল, পুরােনাে হাড় নিয়মিত ভেঙ্গে যায় এবং নতুন করে তৈরী হয়। তবে, ৩০ বছর বয়সের মাঝামাঝি
থেকে আপনার শরীরে নতুন হাঁড় তৈরি হওয়ার মাত্রা কমে যেতে থাকে এবং হাড় গঠনের চেয়ে হাড় ক্ষয় বেশী হয়। অস্টিওপােরােসিস শুধুমাত্র “বয়ষ্কদেরকে আক্রান্ত করে তা সত্যি নয়। একজন ব্যক্তি ৪০ বছর বয়সে এবং কখনও কখনও এর পূর্বে অস্টিওপােরােসিস-এ আক্রান্ত হতে পারে। একজন তরুন তরুনী প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে আপনার হাঁড়ের ঘনত্ব কতটুকু ছিল এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে তা কত দ্রুত হারাচ্ছেন তার উপর অস্টিওপােরােসিস-এর
ঝুঁকি নির্ভর করে। সেহেতু তরুন/তরুনী অবস্থায় যত বেশী সম্ভব হাড়কে মজবুতভাবে গড়ে তােলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৫০ বছর বয়সের উর্ধ্বে প্রতি ৩ জনে ১ জন মহিলা এবং প্রতি ৫ জনে। ১ জন পুরুষ অস্টিওপােরোসিস-এ আক্রান্ত হতে পারে। আপনার বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঝুঁকিও বাড়ে, ৬০ বছর থেকে ৭০ বছর বয়সের মহিলাদের ৩ ভাগের ১ ভাগ এবং ৮০ বছর এবং তদুর্ধ্ব বয়সের মহিলাদের ৩ ভাগের ২ ভাগ আক্রান্ত হয়। সুখবর হচ্ছে, যথাযথ প্রতিরােধক ব্যবস্থা (যেমন, খাবার, জীবন যাপনের ধরন পরিবর্তন)
এবং দ্রুত রােগ নির্ণয় ও চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে তীব্র অস্টিওপােরােসিস হওয়ার ঝুঁকি কমানাে যেতে পারে।

আপনার হাঁড় দেখতে কেমন ?
স্বাভাবিক হাঁড় ঘন এবং মজবুত।
অস্টিওপেনিক হাঁড় দূর্বল হয়ে যেতে থাকে
এবং ঘনত্ব হারাতে থাকে।
অস্টিওপােরােটিক হাড় দূর্বল এবং সহজেই
ফ্র্যাকচার হতে পারে ।
আপনি কি ঝুঁকিতে আছেন ?
প্রারম্ভিক লক্ষণ অস্টিওপােরােসিস কে নীরব ব্যাধি বলা হয় কারণ
সাধারণত এর প্রথম লক্ষণ তখনই বুঝা যায় যখন
আপনি সামান্য পড়ে গিয়ে বা ধাক্কা লেগে হাঁড়
ভেঙ্গে ফেলেন অথবা লক্ষ করেন যে আপনার।
উচ্চতা হাস হয়েছে। P০ অস্টিওপােরােসিস-এর কারণে ফ্র্যাকচার দেখা দেয় এমন হাড়গুলাে হচ্ছে মূলত আপনার শরীরের গঠনকে সহায়তা দানকারী হাঁড় যেমন, আপনার কোমর ও মেরুদন্ডের হাড়।
• কিছু কিছু ক্ষেত্রে শরীরের উচ্চতা হ্রাস হয়ে যাওয়া বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে অনুমান করা হয়, তবে বেশী মাত্রায় কমে গেলে, সাধারণত ১ ইঞ্চির বেশী কমে যাওয়া।
অস্টিওপােরােসিস-এর প্রারম্ভিক লক্ষণের একটি হতে পারে । মেরুদণ্ড বেঁকে যাওয়া বা গােল হয়ে যাওয়ার কারণে ভার্টিব্রা (মেরুদন্ডের ক্ষুদ্র হাঁড়)-এর পুরুত্ব কমে গেলে প্রায়শই উচ্চতা হ্রাস হতে পারে যা প্রতিটি ভার্টিব্রাকে সংকুচিত করে দিতেপারে।
• কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাধারণত মেরুদন্ডে ব্যথা দেখা দেয় এবং বিভিন্ন কারণে তা হতে পারে, মেরুদন্ডের নীচের অংশের এই ব্যথা মেরুদন্ডের হাঁড় সংকোচনের কারণে হতে পারে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!