>

ওষুধের মাত্রা Drug dosage

ওষুধের মাত্রা Dose dosage

প্রথমে রােগ নির্ণয়, তারপর ওষুধ নির্ধারণ অর্থাৎ কোন অসুখের জন্য কোন ওষুধ সবচাইতে উপযােগী তা নির্ধারণ করা। তারপর যে কাজ সবচাইতে প্রয়ােজন তা হচ্ছে নির্দিষ্ট ওষুধের সঠিক মাত্রা নির্ণয় করা।

ওষুধের মাত্রা নির্ধারণ হচ্ছে হিসেবের বিষয়, এই হিসেবের জন্য কতগুলাে জিনিস খেয়াল রাখতে হবে। যেমনঃ বয়স, অন্যান্য অসুখ, কিডনী ও লিভারের কার্যক্ষমতা ইত্যাদি। বাচ্চাদের ওষুধের মাত্রা নির্ধারণ বয়সঃ বাচ্চাদের ওষুধের মাত্রা বা ডােজ পূর্ণ বয়স্ক রােগীর চাইতে কম। বাচ্চাদের মাত্রা নির্ধারণে কয়েকটা ফর্মুলা ব্যবহার করা হয়।

যেমন : ইয়ং এর ফর্মূলাঃ মাত্রা = বয়স X পূর্ণবয়স্কের মাত্রা বয়স + ১২ ক্লার্কের ফর্মূলাঃ বাচ্চাদের ওজন (পাউন্ড) X পূর্ণবয়স্কের মাত্রা মাত্রা = ১৫০ ডিলিং এর ফমূলা ও বয়স X পূর্ণমাত্রা মাত্রা =২০ শরীরের আয়তনের উপর ভিত্তি করে শিশুদের ওষুধের মাত্রা নির্ণয় করা হয়।

নিম্নলিখিত ফর্মুলা ব্যবহার করেঃ- শিশুর শরীরের আয়তন (মি.) X পূর্ণ বয়স্কের মাত্রা মাত্রা। ১.৭৩ মি. (পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির শরীরের গড় আয়তন) বৃদ্ধ লােকদেরও ওষুধের মাত্রা পূর্ণমাত্রার চাইতে কম হয়। কারণ তাদের যকৃত ও বৃক্কের অসুবিধা থাকতে পারে, যেমন ডায়জিপাম ওষুধ বৃদ্ধদের বেলায় পূর্ণমাত্রার চাইতে কম হয়।

নবজাতকের বেলায় অনেক ওষুধ ব্যবহার ক্ষতিকর এবং মাত্রার তারতম্যও অনেক বেশী, কারণ তাদের যকৃত ও বৃক্ক অপরিপক্ক থাকার দরুন ওষুধের বিপাক হয় খুব ধীরে ধীরে। পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিদের ওষুধের মাত্রা শরীরের ওজনের উপর নির্ভর করে। ৭০ কেজি ওজনের একজন মােটাতাজা লােকের ওষুধের মাত্রা ৪০ কেজি ওজনের হেংলাপাতলা লােকের চাইতে অবশ্যই বেশী হবে।

বিভিন্ন অসুখে ওষুধের মাত্রার তারতম্য হতে পারে। যেমন – কোন রােগীর যদি মেনিনজাইটিস থাকে তার চিকিৎসায় এমপিসিলিন (Ampicilin) এর মাত্রা ফুসফুসের অসুখের মাত্রার চাইতে প্রায় চারগুণ বেশী। তাছাড়া মেনিনজাইটিসে কোন কোন ওষুধ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় বেশী পরিমাণে মস্তিস্কে প্রবেশ করতে পারে। ওষুধের ডােসেজ ফর্ম (Dosage Forms of Drugs) আধুনিক ওষুধ সমূহ যে মাত্রায় দেয়া হয় তা খুব সামান্য থাকে এবং এসব ওষুধ সরাসরি রােগীকে দেয়া সম্ভব হয় না। ওষুধ যাতে সুবিধাজনক উপায়ে এবং নির্দিষ্ট মাত্রায় (Dose) রােগীকে দেয়া যায় তার জন্য বিভিন্ন নিষ্ক্রিয় (inactive) উপাদান মিশ্রিত করে ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, সিরাপ, মলম ইত্যাদি তৈরী করা হয়।

এদেরকে বলা হয় ডােসেজ ফর্ম। এই ডােসেজ ফর্ম তৈরী করতে যে নিস্ক্রিয় উপাদানগুলি ব্যবহৃত হয়। তাদেরকে বলা হয় এক্সিপিয়েন্টস (Excipients) বা সহযােগী উপাদান। ডােসেজ ফর্মকে প্রধানত কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়।

১।শক্ত ডােসেজ ফর্ম (Solid dosage form)- যেমন-ট্যাবলেট, ক্যাপসুল ইত্যাদি।

২।তরল ডােসেজ ফর্ম (Liquid dosage form)- যেমন-সিরাপ, সাসপেনশন, ইমালশন, লােশন ইত্যাদি।

৩। আংশিক শক্ত ডডাসেজ ফর্ম (Semi-solid dosage form ) ও যেমন-মলম (Ointment)।

৪। জীবাণু মুক্ত ডােসেজ ফর্ম (Sterile dosage form) ও এরা শক্ত, আংশিক শক্ত বা তরল সবই হতে পারে। কিন্তু এদের বিশেষত্ব হচ্ছে এই ওষুধসমূহে কোন জীবাণু থাকে না। সব ধরনের ইঞ্জেকশন ও চোখ, কান ও নাকের ওষুধসমূহ এই গ্রুপের অন্তর্গত।

ডডাসেজ ফর্মকে ওষুধের মাত্রার পরিমানের উপর নির্ভর করে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমনঃ

১. একক ডােসেজ ফর্ম (Unit Dosage form ) যে সমস্ত ডােসেজ ফর্মে রােগীকে দেওয়ার জন্য একটি মাত্রা (Dose) থাকে তাকে একক ডােসেজ ফর্ম বলা হয়। যেমন ও ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, সাপাে রী ও ইঞ্জেকশন। অর্থাৎ ১ টি ট্যাবলেট খেলে ১ টি ডােজ পাবে। ইঞ্জেকশনের এলে ও ভায়ালে ১ টি মাত্র ডােজ থাকে, কিন্তু অনেক সময় হাসপাতালে ব্যবহারের জন্য ভায়ালে অনেক রােগীকে দেয়ার জন্য ৫-৬ টি পর্যন্ত ডােজ দেয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সিরিঞ্জের মাধ্যমে মেপে ১ টি ডােজ টেনে রােগীকে দেয়া হয়।

২. বহু অংশ ডােসেজ ফর্ম (Multiple Dosages form) যে সমস্ত ডােসেজ ফর্মে একের অধিক ডােজ থাকে তাকে বহু অংশ ডােসেজ ফর্ম বলে। যেমন তরল ও মলম জাতীয় ওষুধসমূহ। একটি বােতলে ১৫ থেকে ২০ বার খাওয়ার মত ডােজ থাকে। একটি মলমের টিউব থেকে অনেক বার রােগীকে ওষুধ লাগানাে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!