>

স্বপ্ন যখন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং

স্বপ্ন যখন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং

ডিপ্লোমা পড়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং???

আমরা ডিপ্লোমা তে ভর্তি হয়েই অনেক বড় বড় স্বপ্ন দেখা শুরু করি, অনেকেই স্বপ্ন দেখে সে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হবে, বড় বড় সফটওয়্যার তৈরি করবে অথবা বড় কোন সফটওয়্যার কোম্পানিতে জব করবে।
কিন্তু কিভাবে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যায়, এর জন্য নিজেকে কিভাবে তৈরি করতে হবে এটা জানেনা।
আর এটা জানার জন্য জখন বড় ভাই বা বোনদের কাছে সাজেশন চায় তখন কিছু কিছু ভাই-বোন তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয় ডিপ্লোমা পড়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, এটা আকাশ কুসুম কল্পনা।
আর তখন থেকেই আমাদের মাথায় ঢুকে যায় আমাদের দ্বারা এটা সম্ভব না, আর আমরা হাল ছেড়ে দেই।
বাস্তবতা হচ্ছে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে হলে আমাদের স্কিল কাজে লাগে, এর জন্য আমাদের ব্যকগ্রাউণ্ড CSE হতে হবে বা BSc/MSc থাকতে হবে এমনটা না।

ডিপ্লোমা পড়েও অনেক ভালো সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া সম্ভব। তারজন্য আমাদের মাইণ্ডে একটা জিনিস সেট করতে হবে যে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে হলে হাল ছারলে হবে না, কঠর পরিশ্রম করতে হবে।

এবার আসি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার কি..?

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মূলত প্রোগ্রামিং বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট করা।

ডিপ্লোমা করে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে হলে কি কি করতে হবে..?

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে হলে আমাদের কয়েকটা বিষয়ের উপর জোর দিতে হবে।

১. প্রথমেই ভালোভাবে একাধিক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ আয়ত্তে আনতে হবে। ( প্রথমত যে কোন একটা ল্যাঙ্গুয়েজ সম্পর্কে ক্লিয়ার ধারণা নেয়া)
২. যে কোন প্রোগ্রামিং সমস্যা সমাধনে দক্ষ হতে হবে।
৩. অ্যালগরিদম ভিত্তিক সমস্যা সমাধানে দক্ষ হতে হবে।
৪. জেনারেল ম্যাথ, ডিস্ক্রিট ম্যাথ সম্পর্কে ধারণা।
৫. বিভিন্ন প্রোগ্রামিং কনটেন্ট এ অংশ নিতে হবে (এতে প্রোগ্রামিং জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে)
৬. প্রজেক্ট বেজ কাজ বেশি বেশি করতে হবে।

এখন আসি প্রথমে কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শিখবো??

আমাদের দেশে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সি অথবা সি++ দিয়ে প্রোগ্রামিং শুরু করে, তাই বলে আমাদের ও এটা দিয়ে শুরু করতে হবে এমন টা না, তবে সি দিয়ে প্রোগ্রামিং শুরু করলে অনেক ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।
কিন্তু আমাদের প্রবিধানে যেহেতু পাইথন ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে শুরু তাই ঘাবরাবার কিছুই নাই। আপনি পাইথোন দিয়েই প্রোগ্রামিং শুরু করেন। এটা একটা জনপ্রিয় ল্যাঙ্গুয়েজ হলেও অনেক সহজ কারণ এতে অনেক কম কোড করতে হয়।
নতুনদের জন্য একটা সমস্যা হচ্ছে কোড অনেক কম থাকার কারনে বুঝতে একটু কষ্ট হয়। তবে ভালো ভাবে বুঝলে কোন সমস্যা নাই।
৬ মাসের মধ্যে পাইথন সম্পর্কে অনেকটা ধারণা আসার পর পরের সেমিস্টারে নতুন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ পাবেন সি# বা সি শার্প, এটা সি ল্যাঙ্গুয়েজের একটা আপডেট এবং পাওয়ার ফুল অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড ল্যাঙ্গুয়েজ।
এখন মাথায় একটা প্রশ্ন আসতে পারে, ভাইয়া পাইথন তো ভালোভাবে শিখলামনা তাতেই নতুন ল্যাঙ্গুয়েজ সুইচ করবো???
এটা কোন সমস্যা না কারণ একটা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের সাথে অন্য প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের প্রায় ৯০% মিল থাকে। দুটো ল্যাঙ্গুয়েজের মাঝে শুধ গঠণ মূলক পার্থক্য থাকে,

সবার উদ্দেশ্য একটাই। প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ যাই হোক আপনার লক্ষ একটাই এবং সমাধান একটাই বের হবে।
তাই টেশনের কোন কারণ নাই, প্রথম সি শার্পের স্ট্রাকচার বুঝতে কিছুটা সময় লাগবে, স্ট্রাকচার বুঝলেই দেখবেন ২টা উদ্দেশ্য একই, পার্থক্য শুধু তাদের গঠণে। এবার যেহেতু আপনি সি শার্পের গঠণ বুঝে গেছেন এখন পাইথনে সমস্যার সমাধান গুলো চেষ্টা করেন, এখন সমস্যার সমাধান করতে পারলে একটু কঠিন লেভেলের সমস্যার সমাধান করতে থাকেন, পাশাপাশি বিভিন্ন কনটেস্টে অংশগ্রহণ করুন, এবং অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের সাইট পাওয়া যায়, রেগুলার সেই সমস্যা গুলো সমাধানের চেষ্টা করুন।
এভাবেই এই সেমিস্টার শেষে আরো একটা নতুন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের সাথে পরিচয় হবে, এটা হচ্ছে প্রোগ্রামিং ইন জাভা (আমার ফেভারিট) আপনি যেহেতু জেনেই গেছেন প্রতিটা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের উদ্দেশ্য একই শুধু গঠনগত পার্থক্য তাই না ঘাভরিয়ে প্রাকটিস শুরু করে দেন। এবং জাভা দিয়ে আগের সমস্যা গুলোর সমাধান করেদেন। পাশাপাশি ছোট ছোট প্রজেক্টের কাজ করেন। জটিল সব সমস্যা খুজে সমাধানের চেষ্টা করেন।…….
পরবর্তী অংশ পরের পোষ্টে।

ধন্যবাদ
𝐌𝐝 𝐇𝐚𝐟𝐢𝐳𝐮𝐥 𝐈𝐬𝐥𝐚𝐦
বরগুনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, বরগুনা।
কম্পিউটার টেকনোলজি

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!