>

বাংলাদেশের ইসলামপন্থীরা কি টের পায় এই গল্পগুলো!

বাংলাদেশের ইসলামপন্থীরা কি টের পায় এই গল্পগুলো!

বাংলাদেশের ইসলামপন্থীরা কি টের পায় এই গল্পগুলো!এই ছবিগুলো ফেসবুকে দেখে অনেকদিন পর আ*ফগান গণমাধ্যমে ঢুকেছিলাম।

বছরখানেক আগেও এই গণমাধ্যমগুলোর প্রতিদিনের নিউজ যেন আমার মুখস্ত হয়ে যেত। এরপর ছন্দপতন হলো। খুব একটা যাওয়া হতো না এসব গণমাধ্যমে।

অনেক দিন পর আজকে ঢুকে মনে হলো যেন একটা ঘুলঘুলির মধ্যে ঢুকে গেছি। বেরই হতে পারছি না।

একের পর এক সংবাদ পড়ছি আর চোখ কপালে উঠছে ধিরে ধিরে।

অনেকটা প্রিয় কোন জায়গা থেকে অনেক বছর দূরে থাকার পর হুট করে উপস্থিত হয়ে সে জায়গার অভূতপূর্ব উন্নয়ন দেখে পুলকিত হওয়ার মত অবস্থা হয়েছে আমার।

কি করে দেখালো এই মোল্লারা! মাত্র ছয় মাস সময়ের মধ্যে পুরো আফ*গানিস্তানে যেন প্রকৃত অর্থেই এক অনবদ্য শাসনব্যাবস্থা তৈরি করে ফেলছে তারা।

সম্ভবত এভাবে মাত্র এক বছর সময় পেলে আফগানিস্তান হবে বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ জায়গা এবং বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে অনুসরণীয় শাসনব্যাবস্থা হবে এই মাটিতেই।

শিক্ষা কার্যক্রম, সমরনীতি, কুটনীতি, অর্থনীতি, বিশ্ব ব্যাবস্থার সাথে অসাধারণ সমন্বয় থেকে শুরু করে কোন সেক্টরে জিতে যাওয়া পরিবর্তন নেই এখানে! পাগড়ি পড়ে,

সিংহ কেশর দাড়ি রেখে ব্যাক্তিত্বপূর্ণ লিডারশীপ বিল্ডিং করার অসামান্য উদাহরণ এই তালেবরা।

তারা যেখানেই হাত দিচ্ছে যেন – সোনা ফলছে সেখানেই।

এখানে নারীরা পুলিশ হচ্ছে, গ্রাজুয়েট হচ্ছে, সমাবর্তন নিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এক ভিন্নরূপে হাজির হচ্ছে।

যেখানে নতুন করে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীরা ভর্তি হচ্ছে। ধর্মীয় শিক্ষার জন্য দেওবন্দি ধারার মাদরাসাগুলো এক নবরূপে হাজির হচ্ছে।

মাদরাসা ছাত্রদের দেয়া হচ্ছে কারিগরী শিক্ষা থেকে নিয়ে সমআধুনিক সবকিছু। নারী পুরুষ যার যার মান মারইদা ঠিক রেখে আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করছে। তালেবরা তাদেরকে সমাবর্তন দিচ্ছে। গাউন পড়াচ্ছে।

মাদরাসাগুলোর বিদায় অনুষ্ঠান যেন জান্নাতি খুসবু ছড়াচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন যেন আগুন ঝড়াচ্ছে। ডায়াচে থাকা একজন পাগড়ি পরিহিত নেতা যখন তাদের সামনে নিয়ে কথা বলছে তখন যেন দ্যুতির ফুলকি ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে।

কী অসাধারণ দৃশ্য এগুলো! এখানেই থেমে থাকছে না তারা। ফিল্ম তৈরি হচ্ছে। ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টারি হচ্ছে। সম্প্রতি আফগান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে দুটো ডকুমেন্টারি ফিল্ম তৈরি হচ্ছে “Salang” এবং “Company Bridge” নামে।

যেখানে আফগানিস্তানের গত সাত মাসের পলিটিক্যাল পরিবর্তনের গল্প তুলে আনা হচ্ছে। সংবাদের ভাষায় দুইটা লাইন পড়ে শুনাই – ‘মাওলানা জাভেদ আফগান,

ডাইরেক্টর অব আফগান ফিল্মস’। ‘জাবিহুল্লাহ মুজা*হিদ, ডেপুটি মিনিস্টার অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কালচার’।

বলেন তো এই লাইন দুটো পড়তে কেমন লাগছে। একজন মাওলানা সে আফগান ফিল্মসের ডাইরেক্টর! আর এক মাওলানা মুজা*হিদ যিনি ইনফরমেশন অ্যান্ড কালচার ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি মিনিস্টার।

ভাবা যায়!!এখানেই থামছে না বিষয়গুলো।

যুদ্ধ*বিধ্বস্ত আফ*গান থেকে তালেবদের ভয় পেয়ে যেসব রাজনৈতিকরা দেশ ছেড়েছেন তাদেরকে ফিরিয়ে আনার জন্য কমিশন গঠন করা হয়েছে।

আফগানি পশতু ভাষায় কমিশনের নাম রাখা হয়েছে – “Commission Ertibatat Ba Shaksiat Hai Afghan Wa Awdat Anan” ইংরেজিতে যাকে বলা হচ্ছে – the Commission of Contact with Afghan Leaders and Their Repatriation.

অর্থাত আফগান ছেড়ে যাওয়া রাজনৈতিক নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে তাদেরকে প্রত্যাবাসন কর্যক্রমের জন্য গঠিত কমিশন।

যে কমিশন আশরাফ ঘানিসহ সবার সাথে যোগাযোগ করবে তাদেরকে তাদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য।

কেবল তাদেরকেই নয়! আফগান ছেড়ে শরণার্থী হওয়া জনগণকেও তারা নিজ দেশে ফিরে আসার আহবান জানাবে বলে জানিয়েছেন। আহ! কী মধুর লাগছে বিষয়গুলো।

কথা এখানেই শেষ নয়! জাতিসংঘের সাথে আফ*গানের ‘ইমা*রতে ইসলামিয়্যাহ’ সরকারের নিয়মতান্ত্রীক সম্পর্ক তৈরির পথও অনেকটা পরিস্কার করে ফেলা হয়েছে।

যে কোন সময় এই সরকারব্যাবস্থা জাতিসংঘ অধিভূক্ত হয়ে যাবে।

আফগানে পরাস্ত হওয়া আমেরিকা রাশিয়ার বর্তমান নেতাদের পাশে বসে ডায়াচে দাড়িয়ে পাগড়ি পড়া এই তালেব নেতারা কথা বলবে তাদের মত করে।

বিশ্ব দেখবে তাদের প্রভাব আর চিন্তা কার্যক্রম।অর্থনীতিতে বিরাট পরিবর্তন এসে যাচ্ছে দেশটিতে। ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্র তৈরিতে সর্বোচ্চ নজর দিচ্ছে এই তালেবরা।

অলাভজনক রাষ্ট্রীয় বিনোয়াগগুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে। যেটাতে লাভের সুযোগ কম সেগুলো পসড করে দেয়া হচ্ছে এবং লাভজনক প্রজেক্টগুলো দ্রুত রিসিউম করে ফেলা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র অফিসার শাফি আজম একটি লিস্ট দিয়েছেন এমন প্রজেক্টগুলোর। যেখানে TAPI

পাইপলাইনসহ অনেক প্রজেষ্ট খুব দ্রুত শুরু করে ফেলা হচ্ছে।কিন্তু অপরদিকে বিশ্ব মোড়ল আমেরিকা কি করছে? আফগানিস্তানের শত কোটি টাকার রিজার্ভ চু*রি করে রেখে দিয়েছে।

কিন্তু তারপরও এ জাতী মেরুদন্ড সোজা করে দাড়াচ্ছে। তারা কেবল যু*দ্ধেই জিতে যায়নি – প্রকৃত অর্থেই তারা দেশটির প্রতিটি সেক্টরে জিতে বসে আসে।

দে আর সিরিয়াসলি উইন এন্ড গেইন।এ জাতীর জন্য সত্যিই শুভকামনা দেয়া যায়।

Hasib R Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!